ইতিহাস

ইতিহাস

                                                  কলেজের ইতিহাসঃ

গোবিন্দগঞ্জ সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমারেখায় ছাতক উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র। সুনামগঞ্জ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে এর অবস্থান । ছাতক সুনামগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলেও ১৯৭২ সাল অবধি ছাতক থানায় কোন কলেজ ছিল না। শিক্ষা-দীক্ষায় ছাতক থানা ছিল নিত্যন্ত অনগ্রসর। গ্রামীণ শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদান রাখা, বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গ্রামীণ দরিদ্র, স্বল্পবিত্ত বা মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে গোবিন্দগঞ্জ এলাকার শিক্ষাহিতৈষী জনসাধারণ ১৯৭২ সালের গোড়ার দিকে গোবিন্দগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গোবিন্দগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২৫শে মার্চ তারিখে ছাতক থানার সর্বস্তরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম, এলাকার প্রধান মুরব্বী বাবু হেমেন্দ্র কুমার দাস পুরকায়স্ত, জনাব লুৎফুর রহমান সরকুম এবং খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মুছব্বির সাহেবের প্রধান উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় গোবিন্দগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৭৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাধারণ কমিটি গঠিত হয়। কমিটি গোবিন্দগঞ্জে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কলেজের একটি স্থান নির্ধারণ করার জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্থান নির্ধারণ কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির প্রধান হিসাবে সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত গোবিন্দনগর নিবাসী জনাব ওহাব আলী সাহেবকে নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে সাধারণ সভার ২য় অধিবেশনে কলেজ পরিচালনার জন্য ২৩ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পরিষদ গঠিত হয়। সিলেট জেলার তদানিন্তন জেলা প্রশাসক জনাব আব্দুল মালেক সাহেবকে কমিটির সভাপতি এবং জনাব আব্দুল মুছাব্বির সাহেবকে কমিটির সেক্রেটারী মনোনীত করা হয়। উক্ত কমিটি পরবর্তী পর্যায়ে সরকারী অনুমোদন লাভ করে। সাধারণ সভায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী সাহেবকে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসাবে মনোনীত করা হয়। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি সানন্দে কমিটির সভাপতির পদ গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ৪ঠা এপ্রিল তারিখে জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী সাহেবের সভাপতিত্বে কলেজের সাধারণ পরিষদের ৩য় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে প্রস্তাবিত কলেজের নামকরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এই এলাকার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুল হক সাহেব নিহত হন। সভায় তাঁর নামানুসারে কলেজটির নাম গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ রাখার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এই সভায় কলেজের জন্য স্থায়ীভাবে স্থান সংকুলান করার পূর্ব পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জ নয়াবাজারের পার্শ্ববর্তী গোবিন্দনগর গ্রাম নিবাসী জনাব আবুল হোসেন সাহেবের একটি সুপরিসর, সুবৃহৎ, চৌচালা টিনের ঘরে সাময়িকভাবে ১৯৭২-১৯৭৩ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণী মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় । কার্যকরী পরিষদের সেক্রেটারী জনাব আব্দুল মুছাব্বির সাহেবকে কলেজের জন্য একজন অধ্যক্ষ এবং বাংলা, ইংরেজী , পৌরনীতি, ইসলামের ইতিহাস, তর্কশাস্ত্র, অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য প্রভাষকবৃন্দ নিয়োগের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সুযোগ্য সেক্রেটারি সাহেব অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে স্থানীয় তরুণ নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় স্টাফ সংগ্রহে সমর্থ হন। ইতোমধ্যে কলেজের জন্য কলেজটির বর্তমান অবস্থানে জমি সংগ্রহের কাজ অতি দ্রুততার সাথে অগ্রসর হতে থাকে, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির কাজ শুরু হয় এবং গোবিন্দগঞ্জ হাইস্কুল সংলগ্ন মাঠে আর ও একটি অস্থায়ী দোচালা টিনের ঘর স্থানীয় জনসাধারণের অর্থানুকুল্যে নির্মিত হয়। নিয়মিত কলেজ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বোর্ডের অনুমতি লাভের জোর প্রচেষ্টা চালানোর প্রেক্ষাপটে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লার কলেজ পরিদর্শক জনাব আবু মোহাম্মদ সাহেব নবপরিচালিত কলেজটি পরিদর্শন করেন। কতিপয় শর্তাধীনে কলেজটি বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে অনুমোদন পত্রের স্মারক নং সি.এর. ১১৮/সিল/৭২/৯৮৪, তারিখ: ৫.৬.১৯৭৩ইং. 


এভাবে কলেজটি একটি সামান্য অবস্থা থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ইতোমধ্যে কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ক্রয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। গোবিন্দগঞ্জ নয়াবাজার থেকে কলেজটি বর্তমান স্থানে চলে আসে। এখানেও স্থানীয় জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় একটি চৌচালা টিনশেড ঘর নির্মিত হয় । সিলেট সরকারী এম.সি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ জনাব আব্দুল আজিজ সাহেব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ২৩শে নভেম্বর কলেজের পববর্তী অধ্যক্ষ জনাব মো. সিরাজুল ইসলাম ইংল্যান্ডে চলে যান। সেখানে প্রবাসীদের সাথে কলেজের ভৌত অবকাঠামো তৈরীর ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা করে লন্ডনে ‘আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ সহায়তা কমিটি’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার বনগাঁও নিবাসী বিশিষ্ঠ নেতা জনাব রজব মিয়া সাহেব কমিটির সভাপতি এবং কলেজের পরবর্তী অধ্যক্ষ জনাব মো. সিরাজুল ইসলাম সাহেবকে সর্বসম্মতিক্রমে সেক্রেটারীর দায়িত্ব অর্পন করা হয়। কলেজের জন্য একটি ভবন নির্মাণ ছাড়াও প্রবাসী কমিটি প্রাথমিক পর্যায়ে কলেজের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটায়। ইতোমধ্যে কলেজে ১৯৭৫-১৯৭৬ শিক্ষাবর্ষে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করা হয় এবং নিয়মিত ভাবে অনুমোদন লাভ করে। ১৯৭৭ সালে কলেজের অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল আজিজ বার্ধক্যজনিত কারণে অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম ইংল্যান্ড থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করলে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ সাহেব এবং এলাকার গণমাণ্য ব্যক্তিবর্গ কলেজ পরিচালনা পরিষদ অধ্যক্ষ মো সিরাজুল ইসলাম সাহেবকে ১৯৭৭ সালে অধ্যক্ষের দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। কলেজ এলাকার দাতা জনসাধারণ এবং সকলের অর্থানুকূল্যে কলেজটি বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উন্নতি হতে সক্ষম হয়েছে। কলেজটির দ্রুত উন্নতিতে ইংল্যান্ড প্রবাসী কলেজ এলাকার নেতৃবৃন্দের অবস্থানকে কোন অবস্থায় খাটো করে দেখা যেতে পারে না। ১৯৯৫-১৯৯৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নিত হয়েছে। ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর মধ্য দিয়ে  উচ্চ শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমানে কলেজে শ্রেণীকক্ষ এবং প্রশাসনিক কাজের একটি বিশাল দ্বিতল ভবন, একটি দ্বিতল একাডেমিক ভবন, একটি দ্বিতল বিজ্ঞান গবেষণাগার, একটি সুপরিসর পাকা টিনের গৃহ, একটি দ্বিতল অনার্স ভবন, কম্পিউটার ল্যাব, একটি পাকা ছাত্র মিলনায়তন রয়েছে । যাঁরা কলেজ প্রতিষ্ঠার সূচনায় নিজেদের শ্রম, অর্থ ও ত্যাগ স্বীকার করে কলেজটিকে বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন তাঁদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা জীবিত আছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং যাঁরা বেঁচে নেই তাঁদের স্মৃতির প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা জানাই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তদানীন্তন মাননীয় বিমান ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর আতাউল গণি ওসমানী সাহেব শত ব্যস্ততার মাঝেও কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে যে আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছেন, মুল্যবান সময় ব্যয করে এলাকার জনসাধারণকে অনুপ্রাণিত করেছেন, কলেজ এলাকার জনসাধারণ অতিশয় শ্রদ্ধাভরে তাঁকে চিরদিন স্মরণ রাখবে। স্থানীয় তরুণ সমাজকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে স্বর্গীয় হেমেন্দ্র কুমার পুরকায়স্থ মহোদয় যেভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসার দাবীদার। স্থানীয় মুরব্বীদের মধ্যে মরহুম ওহাব আলী সাহেব, মরহুম এমাজ উদ্দিন সাহেব, মরহুম হাজী মৌলভী গোলাম মোস্তফা সাহেব, মরহুম নজির হোসেন সাহেব, মরহুম মাস্টার আলাউদ্দিন, মরহুম আপ্তাবুর রহমান সাহেব, মরহুম এমাদ উদ্দিন সাহেব, জনাব আবুল হোসেন, জনাব লুৎফুর রহমান সরকুম, জনাব আব্দুল লতিফ হাজী গং মুরব্বীগণ কলেজের জমি সংগ্রহ করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কলেজের জন্য যারা মুক্তহস্তে দান করেছেন তাঁদের মধ্যে খরিদিচর নিবাসী মরহুম ফখর উদ্দিন, কায়স্তকোনা নিবাসী জনাব আব্দুল মন্নান, লামাবাজার নিবাসী রাশিদ আলী, গড়গাঁও নিবাসী বসির আহমদ, সিংচাপৈর নিবাসী মরহুম আব্দুর রহমান সাহেবের নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রবাসী নেতৃবৃন্দের মধ্যে হাজী মৌলভী আরমান আলী, হাজী আবু তাহের, গোলাম কিবরিয়া সাহেব এবং কারী আব্দুল মন্নান হাজী সাহেব প্রবাসী নেতৃবৃন্দকে কলেজের সহায়তার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যান। ছাতক থানার ভাতগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব গিয়াস মিয়া সাহেব কলেজের যে কোন প্রয়োজনে তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা এবং আন্তরিক প্রচেষ্টাকল্পে কলেজের পাশে দাঁড়ান। কলেজের সাবেক সভাপতি হাজী আবুল কালাম এডভোকেট, কলেজ পভর্ণিং বডির সাবেক সদস্য শামস্ উদ্দিন (কাচা মিয়া) চেয়ারম্যান এবং গভর্ণিং বডির সাবেক সদস্য মরহুম হাজী ছোয়াব আলী সাহেবের আন্তরিকতা ও বদান্যতা প্রশংসার দাবীদার।  কলেজ প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে জমি সংগ্রহ, আর্থিক অনুদান সংগ্রহ, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা সমাধানে অনেকের মধ্যে বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রজব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের সাবেক অস্থায়ী চেয়ারম্যান মরহুম মনির উদ্দিন সাহেব গং অনেকেই মূল্যবান অবদান রেখেছেন। স্থানায়ভাবে সকলের নাম উল্লেখ করা গেল না। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী জনাব আব্দুল মুছব্বির এবং পরবর্তী সেক্রেটারী মরহুম এ কে এম মাহবুবুল হক সাহেব, জনাব লুৎফুর রহমান সরকুম, জনাব কারী ইদ্রিছ আলী সাহেব, জনাব ছৈদুর রহমান সাহেব গং মুরব্বীগণ কলেজের যে কোন প্রয়োজনে কলেজের পক্ষ থেকে এলাকার জনসাধারণকে কৃতার্থ করেছেন। কলেজের মূল ভূমির পরিমাণ ৪.৫০ একর তন্মধ্যে কিছু জমি দানে পাওয়া গেছে। বাকী সব জমি কলেজের এলাকার গোবিন্দনগর, একানিধা, সিংঙ্গুয়া, হরিনগর, শ্যামনগর, পূর্ব সুহিতপুর, দশঘর, বিশ্বম্ভরপুর, সুহিতপুর, বিলপার, তকিপুর, ইলামের গাঁও, বুড়াইর গাঁও, আলমপুর, হায়াতপুর গং গ্রাম সমূহের আপামর জনসাধারণের চাঁদার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিমান ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী সাহেব ১৯৭২ সালের ৪ঠা এপ্রিল তারিখে গোবিন্দগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের ১ম ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, গোবিন্দগঞ্জ এলাকার দিঘলী নিবাসী প্রখ্যাত সমাজসেবী ও বর্ষীয়ান রাজণীতিবিদ বাবু হেমেন্দ্র কুমার দাশ পুরকায়স্থ। প্রধান অতিথি জনাব আতাউল গণি ওসমানী সাহেবের সাথে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব আব্দুল মালিক সাহেব। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উৎফুল্ল জনতার প্রচন্ড ভীড়ের মাঝে জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী সাহেব কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর সার্বিক সহযোগিতার কথা ঘোষণা করলে জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। ১৯৭২ সালের ০১লা আগষ্ট তারিখে একাদশ মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ক্লাস সমূহের উদ্ধোধন করেন পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক জনাব আব্দুল মালিক সাহেব। কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল আজিজ সাহেব, ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক মো সিরাজুল ইসলাম, পৌরনীতি বিষয়ের প্রভাষক মো. আখতার হোসেন, অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক মো. শামসুল বারী , বাংলা বিভাগের প্রভাষক মি. সুনির্মল কুমার দেব মীন এবং বাণিজ্য বিভাগের প্রভাষক মি. বীরেন্দ্র কুমার দেব ও ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক সৈয়দ আবু নছর চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট গীতাকার জনাব মরহুম মো. গিয়াস উদ্দিন সাহেব। তিনি স্বরচিত একটি গানের মাধ্যমে জনতাকে বিমোহিত করেছিলেন। গোবিন্দগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তদানীন্তন প্রধান শিক্ষক জনাব মো. মুহিবুর রহমান সাহেব কলেজের ডেস্ক বেঞ্চের অপ্রতুলতা হেতু সাময়িকভাবে হাইস্কুলের ডেস্ক বেঞ্চ ইত্যাদি আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করে প্রাথমিকভাবে ক্লাশ চালুর ব্যবস্থা করায় তাঁকে সাধুবাদ না জানিয়ে পারা যায় না। প্রাথমিক ভাবে শিক্ষকদের বেতনাদি ও কলেজের প্রাসঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য কলেজ এলাকার অনেক বর্ষীয়ান মুরব্বী অধ্যক্ষ সাহেবের কাছে স্বতস্ফুর্তভাবে অর্থ তুলে দিয়ে যারা কলেজটি যাত্রা পথ সুগম করেছিলেন, তাঁদের মাঝে জাউয়া বাজার নিবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী জনাব মোবারক আলী সাহেব, জালালপুর নিবাসী হাজী ছিদ্দিক আলী সাহেবের মত বয়োবৃদ্ধ মুরব্বীয়ানও ছিলেন। কলেজ প্রতিষ্ঠায় যাদের ত্যাগ ও সাধনা কলেজটিকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে আসতে অশেষ সহায়তা করেছে তাদের অনেকেই বেঁচে  নেই। খুব কম বয়সে দেশের তরুন শিক্ষানুরাগী জনাব মুছন আলীকে আমরা গোড়ার দিকেই হারিয়ে ছিলাম। মঈনপুর নিবাসী ফেরদৌস আহমদ, ইলামেরগাওঁ নিবাসী মরহুম আব্দুস শহীদ বি,এ, জনাব লুৎফুর রহমান সরকুম, অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম সাহেব অর্থ সংগ্রহের কাজে কলেজ এলাকার জনগনের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করেছেন। মাঝে মাঝে তাদেরকে সক্রিয় সহযোগিতা দান করেছেন সংসদ সদস্য জনাব সামছু মিয়া চৌধুরী সাহেব এবং পরবর্তী সংসদ সদস্য জনাব আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আব্দুল হাই। কলেজের অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল আজিজ সাহেব, পৌরনীতি বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মি. আখতার হোসেন এবং সংসদ সদস্য জনাব সামছু মিয়া আমাদের মাঝে নেই। আমরা তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। অকুন্ঠ শ্রদ্ধা নিবেদন করি বঙ্গবীর মরহুম আতাউল গণি ওসমানী সাহেবের স্মৃতির উদ্দেশ্যে যার অকৃত্রিম সহযোগিতায় অনুপ্রাণিত করেছে এলাকার তরুন কর্মীদেরকে। ইংল্যান্ডে কলেজের জন্য ফান্ড সংগ্রহে যে মহৎপ্রাণ কর্মী অত্যন্ত বলিষ্ট এবং সাহসী ভূমিকা রেখেছেন সেই ত্যাগী কর্মী খরিদিচর নিবাসী মরহুম ফখর উদ্দিনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে অশেষ শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা নিবেদন করি সেই মহৎপ্রাণ মুরব্বী বর্ষীয়ান নেতা জনাব ওয়াহাব আলী সাহেবকে। যার ত্যাগ ও কর্ম নিষ্ঠা যুগ যুগ ধরে এই এলাকার তরুনদের সমাজ সেবায় অনুপ্রাণিত করবে। 
২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মরণব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অত্র এলাকার বাতিঘর অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম মৃত্যু বরণ করেন তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এলাকার প্রবাসীরা ও স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে কলেজের উত্তর পূর্ব কোনে একটি সুবিশাল মসজিদ নির্মাণ করে অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম জামে মসজিদ নামকরণ করে তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। এই ক্ষেত্রে তৎকালীন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এর আন্তরিকতা ও সহযোগীতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  ডিগ্রি কোর্স খোলার সময় যে সকল মহৎপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ সহযোগীতা করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। বিশেষ করে, ডিগ্রি কোর্স খোলার ব্যাপারে ১৯৯৩ সনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী মরহুম জনাব আলহাজ্ব আব্দুছ ছোবহান (মদরিছ মাষ্টার) সাহেবকে সভাপতি, জনাব লুৎফুর রহমান সরকুম সাহেবকে সহ: সভাপতি ও মরহুম আলহাজ্ব অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ডিগ্রি উন্নীতকরণ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। তাঁদের মধ্যে জনাব মদরিছ মাষ্টার ও অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম সহ অনেকেই আমাদের মধ্যে বেঁচে নেই। তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি।  বি.এ/বি.এস.এস ও পরবর্তীতে বি.কম কোর্স খোলা এবং ডিগ্রি পরীক্ষার সেন্টার এর ব্যাপারে মরহুম পররাষ্ট্র মন্ত্রী বর্ষিয়ান রাজণীতিবিদ জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ যে সহযোগীতা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছিলেন তা অতুলনীয়। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৩টি বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলার ব্যাপারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও ছাতক-দোয়ারার মাননীয় সংসদ সদস্য ও কলেজ গভর্ণিং বডির সম্মানিত সভাপতি জনাব মুহিবুর রহমান মানিক সক্রিয় সহযোগীতা করেছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কলেজ গভর্ণিং বডির সদস্যবৃন্দসহ এলাকাবাসীর উৎসাহ ও সহযোগীতা এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ড প্রবাসী জনাব সমুজ মিয়া ও ওয়ালী মাহমুদ এর প্রেরণা ও সহযোগীতা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। তকিপুর নির্বাসী হাজী ওয়াব আলী সাহেবসহ অন্যদের বদান্যতা ও সহযোগীতা শ্রদ্ধার সাথে স্মরনীয়। তাছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভি.সি. বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. হারুন রশিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান জাকিরুল ইসলাম এর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। কলেজের দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ ও প্রেরণা দেয়ার অভিপ্রায়ে বিলপার নিবাসী বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আমীর উদ্দিন সাহেব পাঁচ লক্ষ টাকার একটি ট্রাষ্ট (আমীর খুশবাহার শিক্ষা ট্রাষ্ট) অত্র কলেজের মাধ্যমে গঠন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই অকৃত্রিম সহযোগীতায় প্রতিবছর অত্র প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীরা বৃত্তি গ্রহণ করে উপকার লাভ করছে।   
 বৃহত্তর সিলেট জেলার বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার সিলেট জেলার পশ্চিম সীমা রেখায় বিখ্যাত গ্রামীণ ব্যবসা কেন্দ্র গোবিন্দগঞ্জ নয়াবাজার সংলগ্ন সিলেট জেলার ছাতক রেল লাইনের পশ্চিম পাশে ও সিলেট সুনামগঞ্জ সড়ক ও সিলেট ছাতক সড়কের সংগম স্থলে চমৎকার সড়ক, রেল এবং নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে কলেজটির অবস্থান। কলেজটির চারিদিকে অনেকগুলো ছোট বড় গ্রাম এবং বাজার রয়েছে। কলেজ এলাকার ভূমি সমতল আর উর্বর। কলেজের দক্ষিণ পূর্ব-দিকে প্রবাহিত হয়েছে সুরমা নদীর একটি শাখা বটেরখাল। খাল বলা হলে ও আকারে নদী পর্যায়ে পড়ে। ছাতক থানার দক্ষিণাঞ্চলের সাথে নৌ যোগাযোগের উল্লেখযোগ্য নৌ পথ এই বটেরখাল। ছাতক থানা ভারতের সীমান্তভর্তী একটি থানা। এর উত্তরাঞ্চলে ছোট বড় টিলা ভূমি দ্বারা গঠিত। এই অঞ্চলের দূরত্ব কলেজ থেকে প্রায় ১৪ কি. মি.। তার উত্তরে খাসিয়া আর জৈন্তিয়া পাহাড়। কলেজ থেকে উত্তর দিকে তাকালে নজরুলের এই গানের কলি মনে পড়ে-‘‘আকাশ হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ঐ।’’