একাডেমিক নিয়ম-কানুন

একাডেমিক নিয়ম-কানুন

                                                       শিক্ষানুসঙ্গিক কার্যক্রম

শিক্ষা হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যা মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং চরিত্রের বিকাশ ঘটায়। শিক্ষার অর্থ হচ্ছে পরিচর্যা করা, ভেতর থেকে পরিবর্তন আনা বা অভ্যন্তরীণ গুণাবলীর পরিপুষ্টি সাধন করা। তাই শিখন ও শিক্ষণের আদর্শে অনুপ্রাণিত গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের পাঠ্যক্রম এবং সহপাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের সঠিক মান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরিচালনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে পরিকল্পিত শ্রেণিপাঠদানের পাশাপাশি বার্ষক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এখানে খেলাধূলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডসহ অন্যান্যসহ পাঠ্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে কলেজে যেসব শিক্ষানুসঙ্গিক কার্যক্রম বিদ্যমান আছে তার একটি বিবরণ নিম্নে দেওয়া হলো:      লাইব্রেরী: শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা। আর জ্ঞান অর্জনের সহজ সরল পথ হচ্ছে বই পড়া। একটি সমৃদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের সুপরিসর লাইব্রেরিটি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। একজন সহ গ্রন্থাগারিকের সার্বক্ষনিক তত্ত্ববধানে, মনোরম পরিবেশে এখানে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি কার্ড ব্যবহার করে বই পড়ে, নোট করে, প্রয়োজনে বাড়িতে বই নিয়ে যায়।      বিজ্ঞানাগার: বিজ্ঞান শিক্ষায় সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগারের কোনো বিকল্প নেই। বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ের জন্য কলেজে আছে আধুনিক মান সম্পন্ন বিজ্ঞানাগার দক্ষ বিজ্ঞান শিক্ষকগণ এখানে সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন। শিক্ষা বছরের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে রুটিন মাফিক ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালিত ক্লাস হয়। উৎসাহী শিক্ষার্থীদের  জন্যে রয়েছে বিজ্ঞানাগার ব্যবহারের অতিরিক্ত সুবিধা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তির সতস্ফুর্ত ব্যবহার করতে পারবে।      কম্পিউটার ল্যাব: আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জগতে সাবলীল বিচরন শুরু করেছে। গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ ও তথ্য প্রযুক্তির ক্রমঅগ্রসরমান প্রবাহের সাখে স্বগৌরবে সম্পৃক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষাক্রমে প্রাতিষ্ঠনিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষা অর্ন্তভূক্তির প্রথম ধাপেই আমাদের প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার কোর্স চালু হয়। প্রতিষ্ঠানে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব। দুইজন দক্ষ আইসিটি শিক্ষকের সক্রিয় তত্ত্বাবধানে উক্ত বিষয়ের তত্ত্বীয় এবং ব্যবহারিক ক্লাসসমূহ পরিচালিত হয়। তাছাড়া ও কম্পিউটার ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লাইব্রেরীর বই পড়তে পারে অনায়েসে।     মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম: মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণিপাঠ কার্যকক্রম পরিচালিত হয়।      ধর্ম ও নৈতিক মূল্যবোধ: ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য ছাত্র/ছাত্রীদের নিজনিজ ধর্ম পালনের সুযোগ রয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসে একটি সমৃদ্ধ মসজিদ রয়েছে। ঐ মসজিদে মুসলিম ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী প্রত্যেকের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ছাত্রীদের জন্য  রয়েছে কলেজ ক্যাম্পসে পৃথক নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা। প্রতি বৎসর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল উদযাপিত হয়। এছাড়াও সনাতন ধর্মালম্বী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রতি বৎসর স্বরস্বতী পূজা উদযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।      মডেল টেস্ট: এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্বাচনী পরীক্ষার পর নিয়মিত মডেল টেস্ট নেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কাউন্সল এর ব্যবস্থাও আছে। ডিগ্রি (পাস) কোর্সের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তাদের প্রতিটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বে বাধ্যতামূলক ভাবে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। অন্যতায় চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হবে না।      শিক্ষক অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার্থীদের অধিকতর যতœবান করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাকদের ভূমিকাও অগ্রগণ্য। অভিভাবক শিক্ষক সম্পর্ক জোরদার করার প্রযোজন ও রয়েছে।      মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনুদান: কলেজের দরিদ্র ও,মেধাবী ছাত্রদের জন্য আর্থিক সাহার্যের জন্য আমির খুশ বাহার ট্রাস্ট থেকে প্রতিবৎসর আর্থিক অনুদান করা হয়ে থাকে। এছাড়া অপেক্ষাকৃত দরিদ্র তহবিল থেকেও অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের এককালীন আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়ে থাকে।      প্রণোদনা: প্রতি বৎসর এইচ.এস.সি ও ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষায় যারা ভাল ফলাফল করে থাকে তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে।      পোষাক: শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতার মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নির্ধারিত পোষাক পরে কলেজে আসতে হবে। (শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির জন্য) ।     পোষাকের বিবরণ: ছাত্রী নেভি রঙের কামিজ, সাদা সালোয়ার, সাদা ক্রসবেল্ট ও সোল্ডার।      ছাত্র: নেভি ব্লু প্ল্যান্ট ও সাদা শার্ট। (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর।) 
শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য পালনীয় নিয়ম-কানুন:     ১. কলেজ ক্যাম্পাসে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হতে পারবে না।      ২. কলেজ চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন সকাল ১০টার পূর্বে শ্রেণি কক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে।      ৩. কলেজের নির্ধারিক পোষাক পরিধান করে কলেজে আসতে হবে।      ৪. প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কলেজ কর্তৃক সরবরাহকৃত পরিচয়পত্র বহন করতে হবে।      ৫. প্রতিষ্ঠানের সকল ফার্নিচারসহ শ্রেণিকক্ষ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা শিক্ষার্র্থীদের নৈতিক দায়িত্ব।      ৬. পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ অসদুপায় অবলম্বন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গহণ করা হবে।      ৭. ক্লাসের মধ্যে মোবাইল ফোন অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে।      ৮. কোন শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পসের মধ্যে কোন অনৈতিক ও বিশৃংখলা কোন কার্যক্রমে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।      ৯. কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর তার ভর্তি বাতিলের সাধারণত: সুযোগ নেই। তবে মৌলিক কারনে ভর্তি বাতিল বা ছাড়পত্রের প্রয়োজন হলে কলেজের প্রয়োজনীয় ফি জমা পূর্বক আবেদন করতে হবে।      ১০.  সকল শিক্ষার্থীকে কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরন ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।      ১১. অসুস্থতার জন্য কোন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে তাকে পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই অধ্যক্ষ বরাবরে ডাক্তারের সার্টিফিকেট সহ আবেদন করতে হবে।      ১২. সকল ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত লাইব্রেরি থেকে বই নিতে হবে।